কোরান সংকলন- এক লুক্কায়িত ইতিহাসের খোঁজে:
ব্যক্তিগত কারণবশত বেশ কিছুদিন লেখালিখির কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পাঠকদের কাছে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেব দীর্ঘ ছেদের জন্য। তৃতীয় পর্বে বিশপ সেবিওসের বিবরণ দিয়েছিলাম। ৬৭০ খৃষ্টাব্দের সেই বিবরণের সাথে প্রচলিত ইসলামিক কাহিনীর বিপুল পার্থক্য আমরা দেখেছি। তবে সেই বিবরণ থেকে ঐতিহাসিক তথ্য বিশেষ কিছুই জানা যায় না। সেবিওসের বিবরণে নবীর অনুসারীদের মুসলিম বলা হয়নি, বলা হয়েছে সারাসেনীয়। সর্বপ্রথম যে বিবরণে মু্হম্মদ অনুসারীদের মুসলিম বলা হয়েছে সেটি হল নিকিউর কপটিক বিশপ জনের ক্রনিকল, যা সম্ভবত ৬৯০ খৃষ্টাব্দে রচিত হয়েছিল।
“ এবং এখন বেশ কিছু মিশরীয় যারা কিনা ছিল ভূয়া খৃষ্টান, অর্থোডক্স বিশ্বাস আর জীবনদায়ী ব্যাপটিসম ত্যাগ করেছে; আলিঙ্গন করে নিয়েছে ঈশ্বরের শত্রু মুসলিমদের ধর্ম, আর গ্রহন করেছে পশুর ন্যায় ঘৃণিত মুহম্মদের মত; এবং তারা মূর্তিপূজকদের সাথে মিলে পাপে নিমজ্জিত হয়েছে, অস্ত্র তুলে নিয়েছে হাতে এবং যুদ্ধ করেছে খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে” [সূত্র- https://wikiislam.net/wiki/Historicity_of_Muhammad]
পাঠক- উপরের অনুচ্ছেদটি ভালভাবে পরুন। পড়ে মনে হচ্ছেনা কি- যে লেখক মুসলিমদের ক্রিশ্চিয়ানিটি থেকে অধঃপতিত একটি সম্প্রদায় হিসাবেই বিবেচনা করেন, কোন নতুন ধর্ম হিসাবে নয়। এই ক্রনিকলে মুসলিম শব্দের উল্লেখ থাকলেও একথা মনে করার কোন কারণ নেই যে ওই সময় এই শব্দটি প্রচলিত ছিল। মূল ক্রনিকলটি পাওয়া যায় না। আমাদের হাতে যেটা এসেছে সেটা হল ১৬০২ খৃষ্টাব্দে আরবী থেকে অনুদিত একটি সংস্করণ। এই আরবী নথিটি আবার মূল গ্রিক বা ওই ধরণের কোন ভাষা থেকে অনুদিত।সম্ভবত জন তৎকালীন সময়ে প্রচলিত অন্য কোন শব্দ ব্যাবহার করেছিলেন, পরবর্তী অনুবাদক সেটা পালটে মুসলিম করে দিয়েছেন। আমাদের এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হচ্চে কারণ তৃতীয় পর্বে আমরা দেখেছি সংশ্লিষ্ট সময়ের কোন ঐতিহাসিক দলিলেই মুসলিম শব্দটি নেই। এমনকি পঞ্চম পর্বের ‘ডোম অফ দ্য রক লিপি’তেও এটা পাওয়া যায় না।
এতগুলি পর্বের আলোচনায় সম্ভবত প্রমান হয়ে গেছে যে পুরো সপ্তম শতাব্দী জুড়ে ইসলামিক ধর্মততত্বের কোন অস্তিত্বই ছিল না। তাহলে কোন সময়ে ঘটেছিল পৃথক ধর্ম হিসাবে ইসলামের সূচনা? ৭৩০ খৃষ্টাব্দের খৃষ্টীয় ধর্মতাত্বিক জন অফ দামাস্কাস এই বিষয়ে আলোকপাত করতে পারেন কিনা দেখা যাক। জন অফ দামাস্কাস ধর্মদ্রোহিতা বা Heresy -এর বিবরণ হিসাবে লিখিত তার বইতে এক আজব নতুন ধর্মের উল্লেখ করেছেন, এই ধর্মের সাথে যুক্ত সম্প্রদায়কে তিনটি নামে চিহ্নিত করেছেন সারাসেন, হাজারীয় আর ইসমেলাইট। এই নির্দিষ্ট ধর্ম প্রসঙ্গে একটি অধ্যায়ও যুক্ত করেছেন তার বইতে। তিনি মামেদ নামে ভন্ড নবীর কথা উল্লেখ করেছেন যে নাকি- এক খৃষ্টীয় সন্যাসীর থেকে ওল্ড আর নিউ টেষ্টামেন্টের গল্পগুলো জেনে নিয়ে নিজের ধর্মদ্রোহী চিন্তাভাবনার অনুপ্রবেশ ঘটায়। ধার্মিকতার ভান করে মানুষকে সংগঠিত করে আর তারপর স্বর্গীয় গ্রন্থের গুজব রটায় যে সেটা তার উপর অবতীর্ণ হয়েছে।
এরপর জন এই ধর্মের বিস্তৃত বর্ণনা দিয়েছেন যা মোটামুটি ভাবে ইসলামের সাথে মিলে যায়। তার লেখাতেই ইতিহাসে প্রথম বারের মত কাবার উল্লেখ পাওয়া যায়। জন কোরানের বিষয়বস্তু সম্পর্কেও জ্ঞাত ছিলেন। কোরানের চতুর্থ সুরা ‘সুরা নিশা’ সম্পর্কে তার বক্তব্য হল এইরকম-
“এই মামেদ, যেমন আগে বলা হইয়াছে, বিস্তর অসার কাহিনী রচনা করিয়াছিল- তাদের প্রতিটিকে সে একটি নাম দ্বারা চিহ্নিত করিত যেমন কিনা নারী সংক্রান্ত অধ্যায় (অর্থ্যাৎ সুরা নিশা)।এতে সে স্পষ্টরুপে চার স্ত্রী ও সহস্র উপপত্নী গ্রহন করিতে বলিয়াছে, যদি তা সম্ভব হয়”
বস্তুত, প্রকৃতই সুরা নিশায় চার স্ত্রী গ্রহন ও যৌনদাসী ব্যাবহারের বৈধতা দেওয়া হয়েছে (৪:৩ দ্রষ্টব্য)। জন সুরা বাকারারও উল্লেখ করেছেন- “গাভী সংক্রান্ত অধ্যায় (সুরা বাকারা), এবং আরো বহু নির্বোধ ও হাস্যকর বিষয়বস্তু যার সংখ্যাধিক্যের জন্য আমার ধারণা (আমার) উপেক্ষা (এই আলোচনায়) করা উচিত”। কোরানের যেসব জায়গায় ইসা অর্থ্যাৎ যীশু খৃষ্টের উল্লেখ আছে জন তার বিস্তারিত বর্নানা দিয়েছেন-
“ সে (অর্থ্যাৎ নবী মু্হম্মদ) বলিত যে খৃষ্ট ঈশ্বরের বানী ও তার রুহ (কোরান ৯:১৭১), সৃষ্ট (৩:৫৯) এবং তার বান্দা (৪:১৭২, ৯:৩০, ৪৩:৫৯), তার জন্ম মেরী হতে(৩:৪৫) যিনি মোসেস ও অ্যারোনের ভগিনী (১৯:২৪) কোন বীজ ছাড়াই (৩:৩৭, ১৯:২০, ২১:৯১, ৬৬:১২)। .... ঈশ্বর জিজ্ঞাসা করিলেন: যীশু; তুমি কি বলিতে যে আমি ঈশ্বরের পুত্র এবং ঈশ্বর। এবং (মুহম্মদের জবানীতে) তিনি উত্তর করিলেন দয়া করো, প্রভু, তুমি জান আমি এরূপ কিছুই বলি নাই (কোরান ৫:১১৬)”(১)
জন কোরানের আয়াত উল্লেখ করেন নি। তার বর্ণনার সাথে বর্তমান কোরানের বেশ কিছু অসাঞ্জস্য দেখা যায়। যেমন সুরা মায়েদার ১১৬ নং আয়াতে তে আল্লা যীশুকে জিজ্ঞাসা করেন নি যে সে নিজেকে ঈশ্বর বলে অভিহিত করেছে কিনা? বরং “আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর?” আর যীশুর উত্তর “ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত” (৫:১১৬)।
এই অসঙ্গতি ছাড়াও কোরানের বহু সংশ্লিষ্ট আয়াত জনের বিবরণে স্থান পায়নি বিশেষ করে মু্হম্মদের আগমনসংক্রান্ত বিষয়ে যীশুর ভবিষ্যৎবাণী – “স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু”(৬১:৬)। একজন খৃষ্টীয় ধর্মতাত্বিক হিসাবে এই আয়াতটি তার আগ্রহের বিষয় হবার কথা ছিল কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এর কোন উল্লেখ তার লেখায় নেই। তিনি কোরান নামেরও উল্লেখ করেননি। বোঝা যায় বিশপ জনের হাতে কোন লিখিত কোরান ছিল না; তিনি সম্ভবত মৌখিক ট্রাডিশনের উপর নির্ভর করেছিলেন যা কোরান হিসাবে সংকলিত হয়ে থাকবে।তবে কি ৭৩০ অব্দ পর্যন্ত্য কোরান সংকলিত হয়নি? নাকি সেই কোরান বর্তমানে প্রচলিত কোরান থেকে আলাদা। দেখা যাক-
প্রথমবারের মত কোরানের উল্লেখ পাওয়া যায় ৭১০ খৃষ্টাব্দে। এক আরব অভিজাতের সঙ্গে বিতর্ক করতে গিয়ে এক খৃষ্টান পাদ্রী কোরানের নামোল্লেখ করেন। তার কথায় - “আমার ধারণা যে এমনকি তোমার জন্য প্রযোজ্য সমস্ত আইন ও নির্দেশাবলী যা মুহম্মদ তোমাকে শিখিয়েছে, সবকিছু কোরানে নেই। সে কিছু কোরান থেকে নিয়েছে, কিছু সুরা আল-বাকারা, কিছু গাইগি (gygy) এবং কিছু তোরাহ (twrh) থেকে”(২)
শেষপর্যন্ত্য আরব বিজয়ের প্রায় আট দশক পরে কোন ব্যক্তি প্রথম সরাসরি কোরানের উল্লেখ করলেন। এর থেকে বোঝা যায় এই সময়কালের মধ্যে কোরান (এবং মুহম্মদের গল্প) প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল। আবার এই উদ্ধৃতি থেকে এটাও প্রতিয়মান হয় এই খৃষ্টান যাযক যে কোরানের কথা জানতেন সুরা আল বাকারা (কোরানের দ্বিতীয় এবং সর্ববৃহৎ সুরা) তার অংশ ছিল না। এখানে দেখা যাচ্ছে তিনি সুরা বাকারাকে কোরান, গাইগি অর্থ্যাৎ গসপেল (ইসলামিক পরিভাষায় ইঞ্জিল) এবং তৌরাতের মতো আলাদা গ্রন্থ হিসাবে বিবেচনা করছেন। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূল বলে মনে হয় না। কারণ. সাধারণভাবে কেউ একটি পাঠ্যাংশকে সম্পূর্ন গ্রন্থের সাথে গুলিয়ে ফেলে না।
তাহলে আমরা ঈঙ্গিত পেলাম যে সুরা বাকারা এবং সম্ভবত সুরা নিশা কোরানে অনেক পরে ঢোকানো হয়েছে। কিন্তু দুটি ভিন্ন ভিন্ন অমুসলিম উৎসের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছি না। আমাদের প্রয়োজন একটি অন্তত ইসলামী বিবরণ যা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলাম-
অষ্টম শতাব্দীর ইসলামী ইতিহাসবিদ কাতাদা ইবনে ডায়মা (মৃত্যু ৭৩৬) লিখেছেন যে ৬৩০ খৃষ্টাব্দে হুনায়ুনের যুদ্ধে মুহম্মদের চাচা আল-আব্বাস তার সেনাদলকে এই বলে আহ্বান করেন - ইয়া আসাব সুরাত আল-বাকারা অর্থ্যাৎ ‘হে, সুরা বাকারার অনুসারীরা’(৩)। বোঝা গেল সুরা বাকারা সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি পৃথক গ্রন্থ হিসাবে সংশ্লিষ্ট সময়ে অবস্থান করত।
প্রসঙ্গত এই দুটি সুরা ইসলামী আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অষ্টম শতাব্দীর প্রথম দিকে আরব সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্যের সীমা অতিক্রম করে পশ্চিমদিকে উত্তর আফ্রিকা ও পূর্বদিকে সিন্ধু পর্যন্ত্য বিস্তৃত হয়। এই বিশাল সাম্রাজ্যে আরবে প্রচলিত উপজাতি আইন চাপিয়ে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় ছিল আইনকে ধর্মের সাথে যুক্ত করা।যারা বস্তুত, প্রথম থেকে যারা সিরিজটি অনুসরণ করছেন তারা নিশ্চয়ই দেখেছেন একাধিক পর্বে আবদ-আল মালিক আর ইউসুফ বিন হজ্জাজের উল্লেখ করেছি। অনেকগুলি ইসলামী সূত্র জানায় আবদ আল-মালিক যিনি ৬৮৫ খৃস্টাব্দ থেকে ৭০৫ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত্য খলিফা ছিলেন এবং তার অধীনস্থ প্রশাসক হজ্জাজ ইবনে ইউসুফ কোরান সংকলন করেছিলেন। আবদ আল মালিক বলেন- আমি কোরান সংগ্রহ করেছি “জামা’তুল কুর’আনা”(৪)। একাধিক হাদিসে দেখা যায় হজ্জাজ ইবনে ইউসুফ কোরান সংগ্রহ ও সম্পাদনা করছেন। হজ্জাজ এমনকি কোরানের এগারোটি শব্দ পালটে দিয়েছিলেন বলেও কথিত আছে। একটা হাদিস পাওয়া যায় যেখানে এক মুসলিমের জবানীতে বলা হচ্ছে- “আমি হজ্জাজ বিন-ইউসুফ কে বলতে শুনেছি ‘কোরান রচনা কর যেমনভাবে জিব্রাইল তা রচনা করেছিলেন, তার অন্তর্ভূক্ত হবে গাভী সংক্রান্ত পাঠ, অন্তর্ভূক্ত হবে নারী সংক্রান্ত পাঠ এবং অন্তর্ভূক্ত হবে ইমরানের পরিবার সংক্রান্ত পাঠ”(৫)। পরিস্কারভাবে এখনে সুরা বাকারা, সুরা নিশা ও সুরা আলে ইমরানের কথা বলা হচ্ছে।
মনে হয় আবদ আল-মালিক ও ইউসুফ বিন-হাজ্জাজের আগে কোরান সংকলিত হয়নি। ঐতিহাসিক তথ্যও সেই দিকেই ঈঙ্গিত করছে। উসমানের কোরান সংকলন সম্ভবত গাল গল্প ছাড়া কিছু নয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগের পর্বগুলি বিশেষ করে পঞ্চম ও সপ্তম পর্ব দেখতে অনুরোধ করছি। যাই হোক এতগুলি পর্বের আমরা বুঝতে পারলাম কোরান কোন নির্দিষ্ট সময়ে অবতীর্ণ হয়নি। কোন নির্দিষ্ট সময়ে বা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে কোরান রচিত হয়নি। কোরান হল ইভলভড টেক্সট বা ধাপে ধাপে উদ্ধুত ধর্মগ্রন্থ। যেটা প্রায় এক শতাব্দী ধরে বহু গ্রহন-বর্জনের মধ্য দিয়ে পূর্নাঙ্গ চেহারা নিয়েছে। মহাভারতের সাথে কৃষ্ঞের যতটুকু সম্পর্ক, মুহম্মদের সাথে কোরানের সম্পর্ক তার বেশী নয়।
১. John of Damascas, De Haeresibus C/C1(patralogia Greca 94) ; Quoted in Hoyland-Seeing Islam
২. Monk of Beth Hale, Disputation, fol. 4b; Quoted in Hoyland-Seeing Islam
৩. Premare, ‘Abd al-Malik b. Marwan’
৪. Mingana, The Transmission of Koran
৫. Ibn Hajar al-Asqalani, Tahdhib al- Tahdhib, vol 4, 195-197 n-386
প্রতিটি পর্ব একসাথে পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-
http://nijerblog1992.blogspot.in/