দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি আমাদের প্রিয় মুনিন
ভাইয়েরা কথায় কথায় নাস্তিকদের অত্যাচারের বিবরণ হিসাবে ষ্ট্যালিন, মাওকে টেনে
আনেন।অথচ স্ট্যালিন মাও সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সমাজতন্ত্র বিরোধী বাজারী প্রচারণার
মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মুক্তমনারাও এই ধরনের বক্তব্যের সাধারণত বিরোধীতা করেন না।
কারণটা সহজেই বোঝা যায়। ইন্টারনেটে গেলেই ষ্ট্যালিন জমানার গনহত্যা নিয়ে শত শত
আর্টিকেল পাওয়া যাবে- বহু স্বঘোষিত স্কলার পাওয়া যাবে যারা নিয়মিতভাবে স্ট্যালিন
নিয়ে গবেষনা করে থাকেন (এর মধ্যে নামকরা লোকও আছে)। তাদের গবেষনার ফলাফলস্বরূপ
স্ট্যালিনের অত্যাচারের শিকার মানুষের সংখ্যা ৭ মিলিয়ন থেকে ৫৪ মিলিয়নের মধ্যে
ঘোরাফেরা করে। সংখ্যাতত্বটি এতই অদ্ভুত যে বিরোধীতা করাও নিরর্থক। সার্বিক
সামরিক আগ্রসন ছাড়া এত মানুষকে হত্যা করা সম্ভবই নয় (কোন একক দলের
পক্ষে)। রাশিয়ার জনসংখ্যা ও
বাৎসরিক জনসংখ্যার পরিবর্তন নিচে দেওয়া হল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে:
|
Year
|
Average population
|
Live births
|
Deaths
|
Natural change
|
|
1927
|
94,596,000
|
4,688,000
|
2,705,000
|
1,983,000
|
|
1928
|
96,654,000
|
4,723,000
|
2,589,000
|
2,134,000
|
|
1929
|
98,644,000
|
4,633,000
|
2,819,000
|
1,814,000
|
|
1930
|
100,419,000
|
4,413,000
|
2,738,000
|
1,675,000
|
|
1931
|
101,948,000
|
4,412,000
|
3,090,000
|
1,322,000
|
|
1932
|
103,136,000
|
4,058,000
|
3,077,000
|
981,000
|
|
1933
|
102,706,000
|
3,313,000
|
5,239,000
|
-1,926,000
|
|
1934
|
102,922,000
|
2,923,000
|
2,659,000
|
264,000
|
|
1935
|
102,684,000
|
3,577,000
|
2,421,000
|
1,156,000
|
|
1936
|
103,904,000
|
3,899,000
|
2,719,000
|
1,180,000
|
|
1937
|
105,358,000
|
4,377,000
|
2,760,000
|
1,617,000
|
|
1938
|
107,044,000
|
4,379,000
|
2,739,000
|
1,640,000
|
|
1939
|
108,785,000
|
4,329,000
|
2,600,000
|
1,729,000
|
|
1940
|
110,333,000
|
3,814,000
|
2,561,000
|
1,253,000
|
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের ফ্যাসিষ্ট
বাহিনীর দ্বারা সোভিয়েট ইউনিয়ন প্রবলভাবে আক্রান্ত হয় অনুমান করা হয় এই যুদ্ধে
সোভিয়েটের মোট জনসংখ্যার ১৬% অর্থ্যাৎ ২ কোটি ৭০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর:
|
Year
|
Total population
|
Live births
|
Deaths
|
Natural change
|
|
1946
|
98,028,000
|
2,546,000
|
1,210,000
|
1,336,000
|
|
1947
|
98,834,000
|
2,715,000
|
1,680,000
|
1,035,000
|
|
1948
|
99,706,000
|
2,516,000
|
1,310,000
|
1,206,000
|
|
1949
|
101,160,000
|
3,089,000
|
1,187,000
|
1,902,000
|
|
1950
|
102,833,000
|
2,859,000
|
1,180,000
|
1,679,000
|
|
1951
|
104,439,000
|
2,938,000
|
1,210,000
|
1,728,000
|
|
1952
|
106,164,000
|
2,928,000
|
1,138,000
|
1,790,000
|
|
1953
|
107,828,000
|
2,822,000
|
1,118,000
|
1,704,000
|
(সূত্র উইকিপিডিয়া)
উপরের তালিকার দেখা যায় স্ট্যালিন জমানার
প্রতিটি বছরেই জনসংখ্যার হার ছিল উর্ধমূখী (একমাত্র ১৯৩২ সাল ছাড়া ওই বছর সোভিয়েট
ইউনিয়ন জুড়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়।স্ট্যালিন বিরোধীরা এক্ষেত্রেও স্ট্যালিনের হাত
দেখতে পান। তাদের মতে স্ট্যালিন নিজেই এই দুর্ভিক্ষ ঘটিয়েছিলেন)
এখন প্রশ্ন হল স্ট্যালিন তাহলে ৫ কোটি ৪০
লক্ষ মানুষকে হত্যা করলেন কখন? জনসংখ্যা তো সেই পরিমানে কমে যাওয়ার কথাও। ১৯২৭-১৮৫৩
এর মধ্যে জনসংখ্যা সব সময়েই ৯ কোটি থেকে ১১ কোটির মধ্যে ছিল। একথার অর্থ হল
স্ট্যালিন তার দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ হত্যা করেছিলেন। এটা যে কতবড় অসম্ভব
কোন চিন্তাশীল মানুষকে আর বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। কয়েক লক্ষ মানুসকে হত্যা করার পরই বাকীরা হয় অন্য দেশে
পালিয়ে যাবে না হয় সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠী গড়ে তুলে যুদ্ধ শুরু করবে। এটাকে কোন
পদক্ষেপ করেই আটকানো সম্ভব নয়, কারণ বাঁচবার আকাংখ্যা মানুষের সবচেয়ে বড় আকাংখ্যা।
শুধু তাই নয় দেশের অর্ধেক মানুষকে হত্যা করেও এত জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত
থাকা সম্ভবপর কি? যারা স্ট্যালিন বিদ্বেষী তারা দ্বিতীয়বার ভেবে দেখুন।
যাই হোক মূল প্রশ্নে চলে আসি। স্ট্যালিনের
বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ গ্রেট পার্জ (১৯৩৬-৩৮) বা বৃহৎ শুদ্ধিকরন। বলা হয়ে থাকে
স্ট্যালিন নাকি তার বিরোধী সন্দেহে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছেন, লক্ষ লক্ষ
মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়েছেন, বহু মানুসকে সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠিয়েছেন ব্লা
ব্লা ব্লা.....। আলোচনার এই পর্বে উৎস হিসাবে আমি বেছে নিয়েছি মার্কিন সাংবাদিক আনা
লুই স্ট্রঙের ‘দি স্ট্যালিন এরা’ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে অধিষ্ঠিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত
জে.ই.ডেভিসের (মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুসভেল্টের ব্যক্তিগত বন্ধূ) ‘মিশন টু
মস্কো’।আনা লুই স্ট্রং ছিলেন একজন মার্কিন সাংবাদিক, তাকে স্ট্যালিনের আমলে ১৯৪৯
সালে গ্রেপ্তার করা হয়, মুক্তি পান স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর। ততদিনে ক্রশ্চেভ
স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ এনে বাজার গরম করে দিয়েছেন। ফলে আশা করব এই সময়ে
লেখা তার এই বিবরণে আমার স্ট্যালিনবিরোধী বন্ধুরা সন্দেহ প্রকাশ করবেন না।
সোভিয়েট রাষ্ট্র পত্তনের প্রথম দিন থেকেই বৈদেশিক
ও অন্তর্দেশীয় ষড়যন্ত্র (বলা ভাল বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্ত অন্তর্দেশীয় ষড়যন্ত্র) তাকে
মোকাবিলা করতে হয়েছে। পূর্বতন জার সেনাবাহিনীর জেনারেল ম্যানরহাইম ফিনল্যান্ড দখল
করে নেন এবং সেখান থেকে রাশিয়ার উপর হামলা চালান। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স বাল্টিক
সাগরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে সৈন্যসমাবেশ করে। দূর প্রাচ্যে জাপান কামচাটকা ও
সাখালিন দ্বীপের উপর তাদের নিয়ন্ত্রন বজায় রাখে বহুদিন পর্যন্ত্য। শিশু সোভিয়েত
রাষ্টের উপর শেষবার আক্রমন ঘটে ফরাসী সাহায্যপ্রাপ্ত পোলদের দ্বারা। ১৯২২ সালের
আগে ব্লাডিভোস্টক থেকে জাপানীদের তারানো যায়নি। যুদ্ধ যখন শেষ হল রুশ সাম্রাজ্যের
অংশবিশেষ পোলান্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে, ফিনল্যান্ডে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
হয়েছে, এস্তেনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, বেরাসাবিয়া রুমানিয়া
দখল করে নিয়েছে, সাখালিন উপদ্বীপের অর্ধাংশ জাপান অধিকার করে বসে আছে- রুশ
সাম্রাজ্যের অবশিষ্ট অঞ্চলের উপর সোভিয়েতের শাসন চলছে। ব্রিটিশ ও ফরাসী সাম্রাজ্যবাদীরা
সৈন্য প্রত্যাহারের পরেও দেশের অভ্যন্তরে যে দলকেই বিক্ষুব্ধ পাওয়া গেছে তাকেই
ব্যবহার করে সোভিয়েত শাসনকে উৎখাতের চেষ্টা করেছে। দেশ ছিল যুদ্ধে ফতুর-
জীবনযাত্রার মান ১৯১৭ সালের থেকেও নিচু ১৯২০-২১ সালে পরপর দুর্ভিক্ষে চাষীরা চাষের
মূল যন্ত্র গবাদী পশুগুলিকে খেয়ে শেষ করেছিল। লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি তখন ঘুরে
দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে- কৃষিতে যৌথখামার গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে অপরদিকে ভারী
শিল্পগুলিকেও গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। লেনিন চালু করেছিলেন নিউ ইকনমিক পলিসি; এর
মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদী উৎপাদনকে সাময়িকভাবে স্বীকার করা হল। কারণ দেশের লোক না খেয়ে
আছে, সমাজতান্ত্রিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরল
কিন্তু গুপ্তঘাতকের গুলিতে লেনিনের জীবনে যবনিকা নেমে এল। ১৯২৭ সাল নাগাদ উৎপাদন
১৯১৭ সালের স্তরে এল। এরপর অতি দ্রুত কৃষিতে যৌথখামার গড়ে তোলায় চমকপ্রদ অধ্যায়,
১৯৩০ সালের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অর্থনীতিকে দিল নতুন দিগন্ত। ১৯৩৪ সালে
সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৭ সালের তিনগুন উৎপাদন করল। অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির সাথে সাথে
অন্তর্দেশীয় চক্রান্তকারীদের প্রতি ক্রমাগতই নরম মনোভার নেওয়া হতে লাগল। (এই পর্বের
সোভিয়েতবিরোধী চক্রান্তের বিবরন এই পরিসরে আলোচনা করা গেলনা।)
পরিস্থিতি পালটে গেল ১৯৩৪ সালে লেনিনগ্রাদ
(বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ) পার্টির সম্পাদক সের্গেই কিরভের আততায়ীর গুলিতে
নিহত হওয়ার ঘটনা থেকে।কিরভ ছিলেন স্ট্যালিনের বন্ধু তার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী।
হত্যাকারী ছিল দীর্ঘদিনের কমিউনিষ্ট। পার্টির কার্ড দেখিয়েই সে দপ্তরে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। বোঝা গেল এর সাথে
উচ্চতম পর্যায়ের যোগাযোগ আছে। শেশপর্যন্ত্য দেখা যায় এটি একটি
সামগ্রিক চক্রান্তের অংশ আর এর সাথে পলিটব্যুরো সদস্য জিনেভিয়েভ আর কামেনেভ জড়িত
(জিনেভিয়েভ আর কামেনেভ ইতিবূর্বেও বার বার সমাজতন্ত্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা
করেছিলেন। লেনিন মৃত্যুর পূর্বে এই দুজন সম্পর্কে সাবধান করে দিয়ে গেছিলেন)।আরো
অনুসন্ধান চালানো হয় এবং শেশপর্যন্ত্য দেখা যায় চক্রান্তের মূল বার্লিন এবং
টোকিওতে রয়েছে এবং সোভিয়েত রাষ্ট্রের এমন কোন শাখা নেই যেখানে চক্রান্তকারীরা
জায়গা করতে পারেনি। চক্রান্তকারীদের মূল লক্ষ্য সমস্ত প্রথম সারির কমিউনিষ্ট
নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল এবং এই মর্মে তারা বিদেশী শক্তির সাথে চুক্তিবদ্ধ।
পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বুখারিন ও রায়কভ গ্রেপ্তার হলেন, আর এক সদস্য টমস্কি গ্রেপ্তারের
আশঙ্কায় আত্বহত্যা করেন। সেনাবাহিনীকেও যুক্ত দেখা গেল। সেনা বাহিনীর রাজনৈতিক
বিভাগের অধিকর্তা মার্শাল গামারনিক আত্বহত্যা করলেন। সামরিক অধিনায়ক মার্শাল
তুকাচেভস্কি সহ আরো ৭ জন সামরিক অধিকর্তার গোপন সামরিক আদালতে বিচার হয়। মাত্র
কিছুদিন আগেই তুকাচেভস্কি ছিলেন প্রতিরক্ষা দপ্তরের উপমন্ত্রী। বিচার শেষে ঘোষনা
করা হয় যে আসামীরা হিটলারের সাথে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তারা
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন যে হিটলারকে ইউক্রেন দখল করতে সাহায্য করবেন। চেকস্লোভাকিয়া
গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রে এর সমর্থনও পাওয়া যায় (সূত্র: স্ট্যালিন যুগ)। রুশরা সবচেয়ে
বেশী চমকে উঠল যখন সোভিয়েত গুপ্তচর সংস্থা অগপু (পরবর্তীকালে কেজিবি) প্রধান
ইয়াগোদা নিজে জালে ধরা পড়লেন। আনা লুই স্ট্রং লিখেছেন “তাকে যখন দেশদ্রোহী বলে
প্রানদন্ড দেওয়া হল, রাজনৈতিক পুলিসের বহু কর্মচারীকে যখন নির্দোষ নাগরিকদের গ্রেপ্তার
এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্যে অন্যায় উপায় অবলম্বনের দায়ে জেলে ভরা হল...... কে
দোষী? কে নির্দোষ? কে কাকে গ্রেপ্তার করছে?” আনা লুই স্ট্রং লেখেন “আমি যেসব
মামলার কথা নিজে জানি তা থেকে এই মতেরই সমর্থন পাওয়া যায় যে প্রায়ই ভূল লোককে,
বিশৃঙ্খলা আনবার উদ্দেশেই যেন বাছাই করে গ্রেপ্তার করা হত”
মনে রাখতে হবে প্রধান তিনটি মস্কো মামলার
প্রকাশ্যে বিচার হয়েছিল হাজার হাজার বিদেশী কূটনীতিক ও সাংবাদিকের শ্যেনদৃষ্টির
সামনে। বিদেশের কাগজে লেখা হল সাজানো বিচার। আসুন দেখে নেওয়া যাক মামলার
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য কি- “ দিনের দিনের পর দিন আদালতে বসে, এই কাহিনী আমি
ক্রমে বেড়িয়ে আসতে দেখেছি। আসামিরা মুখর ছিলেন; তাদের উপর কোন রকম উৎপীড়ন হওয়ার
চিহ্ন নেই। কামেনেভ বললেন- ১৯৩২ সাল নাগাদ দেখা যে জনসাধারণ স্তালিনের নীতি গ্রহন
করেছে, রাজনৈতিক পন্থায় আর স্তালিনকে উৎখাত করা সম্ভব নয়; উৎখাত করতে হবে
ব্যক্তিগত আতঙ্কের দ্বারা। জিনেভিয়েভ বললেন যে তিনি বহু লোকের উপর হুকুম করতে এতই
অভ্যস্ত পড়েছিলেন যে তা না করতে পারায় তার পক্ষে জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল। এন.
লুরিয়ে নামে একজন দাবী করল যে সে হিটলারের প্রতিনিধি ফ্রাঙ্ক ভাইৎজের পরিচালনায়
কাজ করেছে।... আসামি রাইন গোল্ড তার সহ আসামি কামেনেভের বিরুদ্ধে চীৎকার করে
জানাল- ওর অত ভালো মানুষ সেজে আর কাজ নেই। মৃতদেহের পাহাড় ভেঙেও ও ক্ষমতা দখল করতে
ছুটত” (আনা লুই স্ট্ং: স্ট্যালিন যুগ)
“ আসামিদের স্বীকারোক্তি যে বিশ্বাসযোগ্য
তার বহুরকম লক্ষন আমার মধ্যে রেখাপাত করেছে। যদি ধরে নিতে হয় পুরো বিচার
প্রক্রিয়াটাই সাজানো তাহলে এর পিছনে শেকসপীয়ার সদৃস সৃষ্টিপ্রতিভা এবং বেলাস্কোর
মত মঞ্চায়নের প্রতিভাকেও কল্পনা করে নিতে হবে” (জে.ই.ডেভিস: মিশন টু মস্কো)
এতক্ষনে আলোচনায় আমরা দেখতে পেলাম এইরূপ
পরিস্থিতিতে কোন জাতির পক্ষেই মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করা সম্ভব হত না। চতুর্দিকে
যেখানে ষড়যন্ত্রকারীদের লোক সেখানে বাছবিচার করার বিশেষ অবকাশ থাকে না। বেশ বোঝা
যাচ্ছে ব্যাপারটা স্বেচ্ছাচারী স্ট্যালিনের শত্রুনিধনের মত অত সহজ ব্যাপার নয়। এর
পিছনে বহু দলের কার্যকলাপ এসে মিলেছিল। অগণিত লোককে অতর্কিতভাবে ধরে প্রাচ্যের
কয়েদী শিবিরে পাঠানো হয়েছিল; হাজার হাজার লোককে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল। ১৯৫৬
সালে বিংশতিতম পার্টি কংগ্রেসে ক্রশ্চেভ যে রিপোর্ট দেন তাতে দেখা যায় ১৯৩৪ সালের
পার্টি কংগ্রেসের মোট ১৯৬৬ জন প্রতিনিধির মধ্যে ১১০৮ জনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়,
ওই কংগ্রেস যে ১৩৪ জনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচন করে তাদের মধ্যে ৯৮ জনকে গুলি
করে মারা হয়। এর থেকে পরিস্কার এর জন্য শুধুমাত্র স্ট্যালিন দায়ী নন। কারণ ১৯৩৪ সালের
কংগ্রেস (এই কংগ্রেসকে জয়ের কংগ্রেস বলা হয়) তো তাদের নিয়েই গঠিত হয়েছিল যারা
বরাবর স্ট্যালিনের পন্থায় চলছিল তাদের নিয়ে। তাদেরকে তিনি শেষ করতে চাইবেন কেন।বরং
এটা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বিশ্বাসঘাতক চক্রীদের দ্বারা জাতির শ্রেষ্ঠ মানুষদের
খতম করবার প্রচেষ্টা হিসাবে। গুপ্তচর সংস্থার প্রধান যেখানে ষড়যন্ত্রীদের একজন
সেখানে এই অনুমানটাই শক্ত ভিত্তি পায়।
মুনিন বান্দাদের
কথা নাহয় বোঝা যায় কিন্ত যখন দেখি যারা নিজেদের মুক্তমনা বলে দাবী করেন তারাও
স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে পশ্চিমী দেশগুলি প্রচারিত অপপ্রচারই আওড়ে চলেছেন, শুধু তাই
নয় বিষয়টির গভীরে ঢোকার কোন প্রয়োজনই মনে করেছেন না; তখনই এই বিষয়ে লেখার
সিদ্ধান্ত নি। পরবর্তী পর্বে মস্কো মামলার বিশদ বিবরণ তুলে ধরার ইচ্ছা আছে।আশা করব
প্রকৃত মুক্তমনারা সবদিক খুঁটিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।